প্রিয় ভায়েরা!
আমরা জানি, গত কয়েকদিন থেকে অতিবৃষ্টি ও ভারতের বাঁধ খুলে দেয়ার ফলে নোয়াখালি, ফেনী, কুমিল্লা, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, বি বাড়িয়া, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। লাখ লাখ মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আল্লাহ পাকের নিকট কত সুউচ্চ মর্যাদা রাখে, তা আমরা সকলেই জানি। শুধু মানুষই নয়; হাদীসের বর্ণনামতে যে কোনো তাজা প্রাণের বিপদে এগিয়ে যাওয়াই সওয়াবের কাজ।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
"প্রত্যেক তাজাপ্রাণের সেবাতে রয়েছে প্রতিদান।” -মুত্তাফাকুন আলাইহি
যার বিপদে পাশে দাঁড়াব, তিনি যদি মানুষ হন, তাহলে তার সেবার মর্যাদা আরো বেশি। আর যদি নিজেকে কোনো মুমিনের সেবায় নিয়োজিত করা যায়, তবে তো কথাই নেই। আমি যেন খোদ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সেবাতেই নিয়োজিত হয়ে গেলাম। পৃথিবীতে এর চেয়ে বড় সৌভাগ্যের আর কি হতে পারে?
আমরা আহ্বান করছিঃ
১. আলেম ও দায়ীদের মধ্যে যারা সমাজে প্রতিনিধিত্ব করেন, তাঁরা নেতৃত্ব দিয়ে সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে উক্ত খেদমতে শরীক করবেন।
২. অন্যান্য আলেম উলামা, মাদরাসার তালিবে ইলম ও দ্বীনদার শ্রেণি একাজে বিশেষভাবে এগিয়ে আসবেন।
৩. কলেজ-ভার্সিটির ভাইরা নিজ সহপাঠীদের নিয়ে দ্রুত টীম গঠন করে বন্যার্তদের সাহায্যে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
৪. বিশেষ করে বন্যাকবলিত অঞ্চল ও তার আশপাশের ভাইরা সমাজের সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে নিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারকাজ সহ সার্বিক ক্ষেত্রে সম্মুখে থাকবেন।
৫. দূরের ভাইদের মধ্যে যাদের পক্ষে সম্ভব উদ্যোমী যুবকদের নিয়ে এলাকা ভিত্তিক বিশেষ সেল তৈরি করে অর্থ সংগ্রহ করবেন, প্রতিনিধি দল পাঠাবেন। এই প্রচেষ্টা জারি রাখবেন যতক্ষণ না এই পরিস্থিতি থেকে আল্লাহ সকলকে মুক্ত করেন।
৬. যারা সরাসরি কাজে অংশ নিতে পারব না, তারা অর্থকড়ি দিয়ে, অন্যদের থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এবং দোয়া করে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন ইনশাআল্লাহ।
৭. প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে সৎ ও মুত্তাকি আলেম ও দ্বীনদার ব্যক্তিদের রাখতে হবে। অসৎ ও দুর্নিতিপরায়ণ রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের অতিঅবশ্যই বর্জন করতে হবে।
মহান আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে উম্মতের সার্বিক খেদমতে নিয়োজিত থাকার তাওফিক দিন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন